বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা | আমাদের দেশের বন্যা রচনা

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ২০ পয়েন্ট, আমাদের দেশের বন্যা রচনা ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তার প্রতিকার রচনা জেনে নিবো। তোমরা যদি বাংলাদেশের বন্যা রচনা, আমাদের দেশের বন্যা রচনা ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তার প্রতিকার রচনা টি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ২০ পয়েন্ট, আমাদের দেশের বন্যা রচনা ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তার প্রতিকার রচনা  টি।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা  আমাদের দেশের বন্যা রচনা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা  আমাদের দেশের বন্যা রচনা

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তার প্রতিকার রচনা

ভূমিকা: বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বন্যা এদেশের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বর্ষা ঋতুতে নদীগুলাে যখন বিপদসীমার ওপর দিয়ে অতিরিক্ত । জলােচ্ছ্বাসে গ্রাম ও নগর ভাসিয়ে ফসল নষ্ট করে অগ্রসর হয়, তখন তাকে বন্যা বলে। বন্যা, সামুদ্রিক ঝড়, ঘূর্ণিবাত ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের । কাছে মানুষ আজও অসহায়। বন্যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে । 

বন্যার কারণ: বাংলাদেশের বন্যার কারণসমূহকে দু ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: 

১. প্রাকৃতিক কারণ ও 

২. মানবসৃষ্ট কারণ।

বন্যার প্রাকৃতিক কারণ: বাংলাদেশের বন্যার প্রাকৃতিক কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলাে

  • ভৌগােলিক অবস্থান ও ভূ-তাত্ত্বিক গঠন: বাংলাদেশের ভৌগােলিক অবস্থান ও ভ-তাত্ত্বিক গঠনই এখানকার বন্যার প্রধান কারণ। ভাটির দেশ বাংলাদেশ। উজানের পানি গড়িয়ে এসে পড়ে ভাটির দেশ বাংলাদেশে। প্রাকৃতিক কারণেই বন্যার মােকাবেলায় অবতীর্ণ হতে হয় বাংলাদেশকে। 
  • নিম্নাঞ্চল ভরাট: বর্তমানে দেশের প্রধান জলাভূমিগুলাে ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেখানে পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে বর্ষাকালে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে তা থেকে প্রতিবছরই বন্যা হয়। 
  • অতিবৃষ্টি: অতিবৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানি থেকে বন্যার সৃষ্টি হয় । 
  • মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয় এবং এদেশের নদীগুলােকে আরও স্ফীত করে তােলে । ফলে পানি বেরিয়ে যাওয়ার পথ থাকায় নদীর বুক স্ফীত হয়ে দু কূল ছাপিয়ে বন্যা হয়। 
  • হিমালয়ের বরফ গলা পানি: গ্রীষ্মকালে হিমালয় পর্বতমালার বরফ গলে কোটি কোটি কিউসেক পানি গগা-যমুনা-মেঘনা দিয়ে প্রবাহিত হয় । অন্যদিকে নেপাল, ভারত, ভুটান ও তিব্বতের প্রচুর পানি বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গােপসাগরে পতিত হয়। যার ফলে সৃষ্টি হয় বন্যার । 

বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ: বাংলাদেশের বন্যার মানবসৃষ্ট কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলােঅরণ্য নিধন: বাংলাদেশে ব্যাপক হারে বনাঞল উজাড় হবার ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের সিংহভাগ কোথাও বাধা না পেয়ে সরাসরি নদী-নালায় চলে আসায় পানিপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং বন্যার সৃষ্টি হয়। বাঁধ নির্মাণ ও খালের অভাব: দেশের অভ্যন্তরে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করায় ও প্রয়ােজনীয় খাল খনন না করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়।

গঙ্গা নদীর ওপরে ফারাক্কা বাঁধ: বাংলাদেশের বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলাে ভারতের এক তরফা ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ। এ বাঁধ দ্বারা শঙ্ক মৌসমে পানি আটকিয়ে রাখায় আমাদের নদীগুলাের নাব্যতা হ্রাস পায়, আবার বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে আমাদেরকে। অবধারিতভাবে বন্যার কবলে পড়তে হয় । 

বন্যার অবস্থা: বন্যার সাথে এদেশের মানুষের পরিচয় নিবিড়। তাই বন্যা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই বন্যা মানুষের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। বন্যায় মানুষের ঘর-বাড়ি পানিতে ডুবে যায়। মানুষ ও পশু-পাখির মৃত্যু ঘটে। ফসল নষ্ট হয়ে যায়। সর্বত্র এক ভয়ানক তাণ্ডবলীলা চলে। বন্যায় মানুষ সর্বহারা হয়ে পড়ে। বন্যাপীড়িত এলাকার মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে উচু স্থানে আশ্রয় নেয়। তারা কলার ভেলায় করেও রাত্রিযাপন। করে থাকে। এ সময় অনাহারে, বিভিন্ন রােগ-শােকে চারদিকে মহামারি দেখা দেয়।

বাংলাদেশের বন্যা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশে কিছু স্মরণীয় বিপর্যয়ের নজির রয়েছে। ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালের বন্যা ছিল বেশ ভয়াবহ। ১৯৬৪ সালের বন্যাতে প্রচুর সম্পদের ক্ষতি হয়। ১৯৭০ সালের বন্যা ছিল তুলনামূলক বেশি ভয়াবহ। এতে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ১৯৭৪ ও ১৯৮৭ সালের বন্যায় দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যার ভয়াবহতা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে। এ বন্যায় কত লােকের প্রাণহানী ঘটেছিল তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। প্রায় দেড় মাস স্থায়ী এ বন্যায় দেশের প্রায় ৫৩/৫৪টি জেলা প্লাবিত হয়। 

২০০৪ সালের বন্যা: বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে কয়েকটি ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয় তারমধ্যে ১৯৮৮ সালের বন্যাকে সবচেয়ে ভয়াবহতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু কারও কারও মতে, ২০০৪ সালের বন্যার ক্ষয়-ক্ষতি ও দুর্ভোগের পরিমাণ ছিল আরও বেশি। দেশের উত্তরপূর্বাল দিয়ে শুরু হলেও জুলাই মাসের শেষের দিকে দেশের ৪৩টি জেলা বন্যাপ্লাবিত হয়ে পড়ে। 

বন্যার ক্ষতি ও ভােগান্তি: বন্যায় ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ অর্থনৈতিক অবকাঠামাের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। সর্বোপরি বন্যাকালীন বিশুদ্ধ খাবার পানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে বন্যাগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা: বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্যে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রচিত হয়েছে বিভিন্ন নদী-প্রকল্প। তৈরি হয়েছিল নদী-জলধারার অমিত শক্তিকে শাসনে শৃঙ্খলিত করার জন্যে অসংখ্য বাঁধ। মেঘনা-পদ্ম-ব্রহ্মপুত্র-যমুনার উচ্ছল জলতরঙ্গকে রােধ করার জন্যে নদীর বুকে তৈরি হলাে। বাধ। কিন্তু প্রয়ােজনের মুহর্তে এসব বাঁধ ভেঙে গিয়ে আমাদের জীবনে নিয়ে আসে মহা সর্বনাশ। বন্যা সেখান থেকে বিদায় নিয়েছে চিরতরে। তবে আমাদের কেন এ ব্যর্থতা? যেকোনাে মূল্যে আমাদের এ ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হবে। 

বন্যা প্রতিরােধের উপায়: জনসংখ্যা সমস্যার মতাে বন্যাও আমাদের দেশে অন্যতম সমস্যা। তাই বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্যে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রয়ােজন। বন্যা প্রতিবছর আমাদের দুর্বল করে দিচ্ছে সকল দিক থেকে। তাই বন্যা থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, সেই সম্বন্ধে ব্যাপক গবেষণা ও পরিকল্পনা প্রয়ােজন। বন্যা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সরকার অনেক দিন ধরে বহুবিধ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু তাতে আশানুরূপ কোনাে ফল পাওয়া যায়নি। নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে স্থানে স্থানে বিশাল জলাধার প্রস্তুত করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বন্যা প্রতিরােধ সম্ভব হয়েছে। আমাদের দেশেও সে ব্যবস্থা করা প্রয়ােজন। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্যে ড্রেজারের সাহায্যে নদীবক্ষের পলিমাটি সরিয়ে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করতে হবে । বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কমানাে ও বন্যা প্রতিরােধের উপায়সমূহ নিম্নে দেওয়া হলাে:

  • প্রাক-সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 
  • প্রচুর সংখ্যক আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করে বন্যার্তদের ক্ষয়ক্ষতি কমানাে যেতে পারে। 
  • ত্রাণ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখার ও ত্বরিত সাহায্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ে যথেষ্ট ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। 
  • বন্যানিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থার জন্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। 
  • বাঁধ ও পােল্ডার নির্মাণ করতে হবে। 
  • নদী খনন করে পানি প্রবাহ সৃষ্টি করতে হবে এবং নদীসঙ্গম স্থলে ব্যাপক বৃক্ষরােপণ করতে হবে ।

বন্যা প্রতিরােধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা: বাংলাদেশের বন্যা প্রতিরােধে আন্তর্জাতিক সহযােগিতা প্রয়ােজন। ভৌগােলিক কারণে ভয়াবহ বন্যা বাংলাদেশকে ছােবল মারলেও এ বন্যার পানির উৎস উজানের দেশসমূহ। নেপাল, চীন, ভারতের ওপর দিয়ে হিমালয়ের বরফ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করলেও তার ভয়াবহতা বহন করতে হচ্ছে ভাটির দেশ বাংলাদেশকে। পানির ধর্ম নিম্নমুখী গমন। বাংলাদেশ উচ্চভূমির প্রবল জলরাশিকে সাগরে প্রবাহিত করে নিজের বুকে বন্যা ডেকে এনেছে। বাংলাদেশের সর্বনাশা বন্যার পানি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের ভূমি থেকেই আসে। বাংলাদেশের ভয়াবহ বন্যা। একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। অতএব বাংলাদেশের এ দুর্যোগ মােকাবেলায় জরুরি আন্তর্জাতিক সহযােগিতা প্রয়ােজন। আর এ সত্য সরকারকে তুলে ধরতে হবে আন্তর্জাতিক ফোরামে। 

উপসংহার: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে মানুষের শক্তি নিতান্তই সীমাবদ্ধ। কিন্তু তাই বলে দৈবের ওপর নির্ভর করে থাকলেই চলবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সংগ্রাম করেই মানুষকে যুগে যুগে বেঁচে থাকতে হয়েছে। এ সমস্যার নিরসনে সরকার ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বানীয়। আমাদের দেশ বন্যা প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা পেলে, এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের বেদনা-ঘন মন আনন্দে ভরে উঠবে। দেশে সমুদ্ধি আসবে।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ২০ পয়েন্ট, আমাদের দেশের বন্যা রচনা ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তার প্রতিকার রচনা

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ২০ পয়েন্ট, আমাদের দেশের বন্যা রচনা ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তার প্রতিকার রচনা  টি। যদি তোমাদের আজকের এই বাংলাদেশের বন্যা রচনা, আমাদের দেশের বন্যা রচনা ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তার প্রতিকার রচনা  টি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইটের সাথে থাকো।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url