কুটির শিল্প রচনা | ত্রিপুরার কুটির শিল্প রচনা

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো কুটির শিল্প রচনা | ত্রিপুরার কুটির শিল্প রচনা জেনে নিবো। তোমরা যদি কুটির শিল্প রচনা | ত্রিপুরার কুটির শিল্প রচনা টি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের কুটির শিল্প রচনা | ত্রিপুরার কুটির শিল্প রচনা  টি।

কুটির শিল্প রচনা  ত্রিপুরার কুটির শিল্প রচনা
কুটির শিল্প রচনা  ত্রিপুরার কুটির শিল্প রচনা

কুটির শিল্প রচনা

ভূমিকা: গরিব লােকেরা নিজগৃহে স্বল্প মূলধনে যে পণ্যদ্রব্য উৎপাদন করে, তাকেই সাধারণত কুটিরশিল্প বলে। এতে বেশি লােক বা বেশি দামি যন্ত্রপাতির দরকার হয় না। অতি প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশের কুটিরশিল্প বিশ্ব খ্যাত। তাঁতের শাড়ি ও কাপড়, বাঁশ-বেতের জিনিস, মাটির হাঁড়িপাতিল, দা-কুড়াল, ছুরি, কাঁচি, শীতল পাটি, মাছ ধরার যন্ত্রপাতি ইত্যাদি কুটিরশিল্পের অন্তর্গত। কুটিরশিল্পের নাম থেকেই ঐ শিল্প-স্বরূপের পরিচয় পাওয়া যায় । ১৯৪৯-৫০ সালের ভারতীয় ফিসক্যাল কমিশনের অনুমােদিত সংজ্ঞা হলাে, আংশিক বা পূর্ণবৃত্তি হিসেবে যে শিল্প, কারিগর সম্পূর্ণভাবে বা পরিবারের অন্য সকলের সহযােগিতায় পরিচালিত করে, তারই নাম কুটিরশিল্প । কারখানায় নয়, কুটির বা গৃহে প্রস্তুত শিল্পদ্রব্যই হলাে কুটিরশিল্প। 

কুটিরশিল্পের অতীত গৌরব: আমাদের দেশের কুটিরশিল্প একদিন সমগ্র পৃথিবীতে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল । এদেশের বিখ্যাত মসলিন কাপড় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতাে। শুধু মসলিন কাপড়ই নয়, বাংলার মৃৎশিল্প, কাঁচি, ছুরি, বাঁশের তৈরি জিনিস ইত্যাদি শিল্পদ্রব্য রপ্তানির জন্যে বাংলাদেশ ছিল বিশ্ববিখ্যাত। কিন্তু সেগুলাে এখন ইতিহাসের অধ্যায় মাত্র, আজ তাই বাংলার কৃষিজীবনে ভাঙন। ভেঙে গেছে তার অর্থনৈতিক জীবন। 

বাংলার কুটিরশিল্পের ঐতিহ্য: বাংলার কুটিরশিল্পের ছিল অতীত ঐতিহ্য। ঢাকাই মসলিন ছিল জগদ্বিখ্যাত। এ ছাড়াও যশােরের বােতাম ও চিরুনিশিল্প, ঢাকার অত্যাশ্চর্য শখ-শিল্প বিশ্বব্যাপী বিস্ময় সৃষ্টি করত। বাংলার মিষ্টান্নশিল্প, মাদুরশিল্প, সূচিশিল্প, চর্মশিল্প, হস্তনির্মিত কাগজ, সাবান, ঝিনুক, বাঁশ ও বেতের নানারকম জিনিস, কাচের চুড়ি, কার্পেট ইত্যাদি শিল্পেরও কদর ছিল ব্যাপক। কুটির শিল্পীরাবংশপরম্পরায় একই ধরনের শিল্পের চর্চা করত।

গ্রামকেন্দ্রিক বাংলার কুটিরশিল্প: কুটির শিল্প সৃষ্টির উৎস ছিল গ্রাম। এ শিল্প সৃষ্টিকে কেন্দ্র করেই গ্রামে নানা সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছিল। যেমনসত্রধর, কর্মকার, কুমার, শাঁখারী প্রভৃতি। এরাই ছিল কুটিরশিল্পের ধারক ও বাহক। তাঁতিরা বুনত কাপড়-গামছা। কুমােররা তৈরি করত হাঁড়ি-কলসি প্রভৃতি। কামাররা নির্মাণ করত কোদাল-কুড়াল, কাস্তে-হাতুড়ি, ছুরি-কাঁচি ইত্যাদি । ছুতাররা প্রস্তুত করত নানারকম কাঠের জিনিস। আর শাঁখারীরা। তৈরি করত শাঁখের জিনিস। 

কুটিরশিল্পের অবনতির কারণ: কুটিরশিল্পের সেই গৌরবময় সূর্য আজ অস্তমিত। আধুনিক প্রযুক্তির আশীর্বাদে কলের যন্ত্রে কুটিরশিল্পের অনেক কিছুই এখন অনেক অল্প পরিশ্রমে, কম সময়ে ও কম খরচে উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে কুটিরশিল্প যন্ত্রশিল্পের কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আমাদের বচির পরিবর্তনে দেশিয় কুটিরশিল্পজাত দ্রব্যগুলাে গুণে শ্রেষ্ঠ হলেও আমরা কলে প্রস্তুত দ্রব্যসমূহের বাহ্য ঔজ্জ্বল্য ও সূক্ষ্ম কারুকার্যে মুগ্ধ হয়ে সেগুলাে কয় করি। তৃতীয়ত, দেশি শিল্পের উন্নতি বিধান করতে হলে যে পরিমাণ স্বদেশপ্রেম ও ত্যাগ-স্বীকার প্রয়ােজন, আমাদের মধ্যে তার অভাব রয়েছে প্রচুর। আমাদের স্বার্থপরতার ফলে দেশি কুটিরশিল্পগুলাের চরম অবনতি ঘটেছে। 

কুটিরশিল্পের প্রয়ােজনীয়তা: আমাদের মতাে দরিদ্র দেশে কুটিরশিল্পের প্রয়ােজনীয়তা অনেক। কারণ কুটিরশিল্প প্রস্তত করে আমাদের দেশের অনেক মানুষ জীবনধারণ করে। শুধু তাই নয়, কুটিরশিল্পের সম্ভার বাড়িয়ে আমদানির পরিমাণ কমিয়ে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রােধ করে দেশকে স্বনির্ভর করে তােলা যায়। তা ছাড়া দেশের বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের পথও কিছুটা সুগম করা যায় কুটিরশিল্পের বিকাশের মধ্য দিয়ে। 

কুটিরশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উপায়: আমাদের মতাে দরিদ্র দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতি বিধান করতে হলে কুটিরশিল্পের উদ্ধার ও উন্নয়নের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। কুটিরশিল্পজাত দ্রব্যাদি বিক্রয়ের জন্যে সরকারি উদ্যোগ একান্ত কাম্য । দেশের নারীসমাজের বৃহৎ অংশকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে কুটিরশিল্পে নিয়ােজিত করতে হবে। দেশের বাইরে শিল্পজাত দ্রব্যাদির বাজার সৃষ্টিতে সচেষ্ট হতে হবে। নতুন নতুন কুটিরশিল্প উৎপাদনে সহযােগিতা করার ও পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সাহায্য ও সহযােগিতা একান্তভাবে কাম্য। 

উন্নত দেশসমূহে কুটিরশিল্প; উন্নত দেশগুলােতে কুটিরশিল্প যন্ত্রশিল্পের সাথে প্রতিযােগিতায় টিকে রয়েছে। সেসব দেশের ব্যবসায়ীরা ছােট ছােট শিল্পের মেশিন বসিয়ে প্রচুর পণ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে নিজের দেশের প্রয়ােজন মিটিয়ে বিদেশেও তা রপ্তানি করে। তারা প্রায় সব নিত্যপ্রয়ােজনীয় জিনিস নিজেরাই প্রস্তুত করে থাকে। 

উপসংহার: বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থাকে উন্নত করতে হলে কুটিরশিল্পের প্রতি মনােযােগ দিতে হবে। বাংলাদেশের কুটিরশিল্পের হারানাে বাজার পুনরুদ্ধার করার জন্যে সম্প্রতি সরকার উদ্যোগী হয়েছেন। বহু শতাব্দীর জড়তা থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের কুটিরশিল্পের এ নবজাগরণ বাংলাদেশিদের জীবনে সত্য হােক, সফল হােক।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ কুটির শিল্প রচনা | ত্রিপুরার কুটির শিল্প রচনা

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম কুটির শিল্প রচনা | ত্রিপুরার কুটির শিল্প রচনা  টি। যদি তোমাদের আজকের এই কুটির শিল্প রচনা | ত্রিপুরার কুটির শিল্প রচনা  টি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইটের সাথে থাকো।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url